গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়টি জীবন মুখী অধ্যয়ন। দিনকে দিন এর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে তরুণ-তরুণীদের। আর বাড়বেই না কেন, প্রতিনিয়তই নতুন কিছু যুক্ত হয়ে সমৃদ্ধ করছে সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যয়নকে।

শিরোনামের পডকাষ্ট শব্দটির সাথে হয়তো অনেকেই পরিচিত না। তাদের সুবিধার্থে বলছি পডকাষ্ট হচ্ছে বর্তমান প্রেক্ষাপটে রেডিওর আদলে গড়ে উঠা মাধ্যম। যেখানে সরাসরি সম্প্রচারসহ রেকর্ডকৃত কোনো অডিও প্রোগ্রাম শ্রোতাদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উপযোগী করে তোলা হয়। এবং যে কোনো স্থান থেকে অনুষ্ঠান রেকর্ড করে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ মিলিয়ন শ্রোতাসহ অনেক দেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে পডকাষ্ট। আমাদের দেশেও এর চর্চা শুরু হচ্ছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের কথা ধরা যাক। সাংবাদিকতার বাস্তবিক দিকগুলো সবচেয়ে বেশি প্রায়োগিক রুপ পায় এখানে। প্রতিদিনকার ঘটনা, জীবন বৈচিত্র্যতা এসবই মূলত সাংবাদিকতার বিষয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার প্রায়োগিক দিকে যুক্ত হয়েছে পডকাষ্ট । যা পরিচিত MCJ Podcast নামে। এই প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন কন্ঠচর্চাসহ সাংবাদিকতার নতুন দিক। প্রতিদিনকার ঘটনা প্রবাহ, আবৃত্তি,গান, সাক্ষাৎকার, বিশেষ দিবসসমূহে ভিন্ন আয়োজনে মাতিয়ে তুলে MCJ Podcast কে। কন্ঠের সম্মোহনে শ্রোতাদের আকৃষ্ট করে তুলছেন রেডিওর আদলে গড়ে উঠা এই পডকাষ্ট। করোনা পরিস্থিতিতে গুজব ঠেকানো, সচেতনতাসহ ঘরে বসে কিভাবে ভালো সময় কাটানো যায় এ সব বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছে MCJ Podcast। এছাড়াও অনিয়মের উপর ও তীব্র কন্ঠে আঘাত হানছে পডকাষ্ট।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভিন্ন পরিক্রমার এ আয়োজন ইতোমধ্যে অর্জন করতে শুরু করেছে জনপ্রিয়তা। যাত্রা শুরু খুব বেশি দিন হয় নি। বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের ‘অনলাইন জার্নালিজম’ কোর্সের অংশ হিসেবেই এর আলোচনা শুরু। আর সাথে সাথেই প্রায়োগিক দিক সমৃদ্ধ করতে বিভাগের শিক্ষক কাজী আনিসের উদ্যোগে পথ চলতে শুরু করে MCJ Podcast।

এ ভিন্নধর্মী মাধ্যম নিয়ে বিভাগের শিক্ষক কাজী আনিস বলেন , সাংবাদিকতা বিভাগ সবসময়ই বাস্তবিক কাজে বিশ্বাসী, এই মাধ্যমটিতে শিক্ষার্থীরা নতুন কিছু শিখছে, চর্চা করছে, তারা প্রায়োগিক দিক থেকে সমৃদ্ধ হচ্ছে অনেক। এ ছাড়াও বিভাগের সমৃদ্ধি অর্জনে পডকাষ্ট ভূমিকা পালন করবে। দেশের যে কোনো পরিস্থিতিতে কন্ঠের জাদু নিয়ে হাজির হবে, এটাই প্রত্যাশা করি।
শিক্ষার্থীরা ও বেশ আগ্রহ নিয়ে কাজ করছেন পডকাষ্টে । নিত্য নতুনভাবে সাঁজিয়ে তুলছেন অনুষ্ঠানসূচি।

পডকাষ্টে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ননা করতে গিয়ে বিভাগের শিক্ষার্থী আল-নাইম জানান, প্রথমত পডকাস্টে কাজ করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। কারন এখানে ভিডিও বা লিখিত কিছুই থাকে না। মানুষকে শুধু শোনাতে চাওয়াটা সহজ নয়।সুতরাং পডকাস্টে কাজ করাটা অনেকটা কন্ঠের খেলা। আমি এমন একটা স্বপ্ন দেখি যেদিন এমসিজে পডকাস্টের একটা কন্টেন্ট এর জন্য মানুষ মুখিয়ে থাকবে।শুধু ক্যাম্পাস নয়, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটা সাইটে পরিনত হবে এমসিজে পডকাস্ট।

পডকাষ্ট নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখছেন শিক্ষার্থীরা। সময়ের প্রয়োজনে বাংলাদেশে এই মাধ্যমটিকে জনপ্রিয় করে তুলতে হয়তো ভূমিকা রাখবেন এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পডকাষ্ট একদিন মানুষের হৃদয়ের কথা বলে ঠাঁই করে নিবে জীবনযাত্রায়, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।